বইয়ের পাতার সুভাস, আর মনের গহীনে তুমি,
অজস্র অক্ষরের ভিড়ে, শুধু তোমার নাম খুঁজি।
জ্ঞান আর প্রেমের এই অপূর্ব সঙ্গমে,
আমার আমিকেও তোমার কাছে হারাই।
যেন প্রতিটি পৃষ্ঠা উল্টানোর শব্দে নিঃশব্দে তোমারই আগমন ঘটে
কোনো এক অচেনা বিকেলের মতো,
ধীরে ধীরে এসে বসো আমার ভাবনার জানালায়।
আমি শব্দ শিখতে গিয়ে তোমার চোখের ভাষা পড়ি,
উপমা খুঁজতে গিয়ে তোমার হাসির কাছে পরাজিত হই।
গ্রন্থাগারের স্তব্ধতা ভেঙে হৃদয়ের ভেতর এক অদ্ভুত আলো জ্বলে ওঠে।
মনে হয়, সমস্ত জ্ঞান এসে দাঁড়ায় একটিমাত্র অনুভবের কাছে-
“ভালোবাসা”।
যেখানে যুক্তিরও একদিন ক্লান্তি নামে,
আর আবেগ নিঃশব্দে বসে থাকে প্রিয় মানুষের নামের পাশে।
তুমি যেন আমার অপঠিত কোনো প্রিয় অধ্যায়,
যাকে প্রতিদিন নতুন করে বুঝতে চাই, তবু সম্পূর্ণ বোঝা হয় না।
তোমার অনুপস্থিতিও কখনো কখনো এত গভীর হয়ে ওঠে,
যেন বুকের ভেতর এক অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি পড়ে আছে—
শব্দ আছে, বাক্য আছে,
কেবল তুমি নেই বলে অর্থ সম্পূর্ণ হয় না।
তবু আমি লিখে যাই, কলমের নিবে জমে থাকা নীরবতা দিয়ে।
কারণ আমি জানি,
একদিন হয়তো তুমি পড়বে আমার সমস্ত অব্যক্ত উচ্চারণ,
আর বলবে,
“এত অক্ষরের ভিড়ে সত্যিই কি শুধু আমাকেই খুঁজেছিলে?”
তখন আমি মৃদু হেসে বলব, হ্যাঁ প্রিয়তি,
বইয়ের পাতার সুভাসে, জ্ঞানের গভীরতায়,
আর আমার সমস্ত নিঃসঙ্গ রাত্রির ভেতর,
আমি কেবল তোমাকেই পড়েছি।