প্রিয়,
তুমি জানো?
আগে ভাবতাম, ভালোবাসা মানেই হয়তো কাউকে খুব বেশি মনে পড়া। এখন মনে হচ্ছে, ভালোবাসা বোধহয় কাউকে ধীরে ধীরে নিশ্চিন্ত করার নামও; এমন এক আশ্বাস, যেখানে মানুষ ভয় না পেয়ে একটু একটু করে নিজের ভেতরটা খুলে দিতে শেখে।
আমি চাই না, তুমি আমাকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়োর সিদ্ধান্ত নাও। কারণ খুব দ্রুত জন্ম নেওয়া বিশ্বাস অনেক সময় হঠাৎ করেই ভেঙে যায়। আমি বরং চাই, তুমি সময় নিয়ে দেখো, আমি সত্যিই কথার মানুষ কি না, নাকি শুধু কথার ভেতর সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা একজন মানুষ।
তুমি তোমার চিঠিতে লিখেছিলে, ভুল মানুষকে বিশ্বাস করার ভয় মেয়েদের খুব পুরোনো। কথাটা আমি অনেক ভেবেছি। হয়তো এই কারণেই এখন নিজেকে নিয়ে আগের চেয়ে বেশি সতর্ক হয়ে উঠি। কারণ আমি চাই না, কোনোদিন আমার কোনো আচরণ তোমাকে নীরবে এটা ভাবতে বাধ্য করুক “মানুষটাকে বুঝতে ভুল হয়েছিল।”
তুমি আরেকটা কথা বলেছিলে, আমি নাকি
জিততে চাই না, বুঝতে চাই। জানো?
এই লাইনটা আমার ভেতরে দাগ কেটেছে। কারণ
সত্যি বলতে কী, তোমাকে পেয়ে যাওয়ার অস্থিরতায় আমি নেই।
আমি বরং এমন একজন হতে চাই, যাকে ভেবে প্রতিদিন একটু একটু
করে তোমার ভয় কমে, আর নিঃশব্দে ভরসা তার নিজের জায়গা করে নেয়।
তোমার ধীরতাটুকু আমি সম্মান করি। কারণ নদীও তো একদিনে সমুদ্র হয় না; তারও পথ লাগে, সময় লাগে, ধৈর্য লাগে। তাই আমি শুধু এটুকুই চাই, যদি কোনোদিন তোমার মনে হয়, “মানুষটা হয়তো ভরসা হতে পারে”, তাহলে সেই ভাবনার পাশে আমাকে একটু জায়গা দিও। বাকি পথটুকু আমি তাড়াহুড়ো করে হাঁটতে চাই না। কারণ কিছু সম্পর্ক দৌড়ে নয়, পাশাপাশি ধীরে হাঁটলেই সবচেয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে।
ইতি
তোমারই আলিফ ।
পুনশ্চঃ
একটা প্রশ্ন প্রথমদিন থেকেই নীরবে আমার
ভেতরে বসে আছে।
তোমাকে কী নামে ডাকি?
“প্রিয়” বললে মনে হয় খুব সাধারণ হয়ে যায়, নাম ধরে ডাকতে গেলে অকারণে দূরত্ব লাগে, আর নিজের মতো কোনো নামে ডাকতে গেলে ভয় হয়!