প্রিয়,
সব দেরির ভেতরে অবহেলা থাকে না; কিছু দেরির ভেতরে দায়িত্বও থাকে, এই ধান কাটার মৌসুমে সেটা আরও বেশি বুঝলাম।
মাথায় ধানের আঁটি নিয়ে ফেরা, দুপুরের রোদে মুখটা ক্লান্ত হয়ে আসা, তবু উঠোনে এসে আবার ধান ছড়ানোর তাড়া। গ্রামের মেয়েদের জীবন বোধহয় ঠিক এমনই। নিজের ক্লান্তির হিসেবটা খুব কম রাখে, অথচ অন্য সবার প্রয়োজনটুকু নিঃশব্দে গুছিয়ে দেয়। তোমাদেরকে কখনো কখনো নদীর মতো মনে হয়; উপরে শান্ত, অথচ ভেতরে ভেতরে কত অদৃশ্য স্রোত বয়ে যায়, তার শব্দ বাইরে খুব কমই শোনা যায়।
তাই তোমার দেরিতে লেখা উত্তরটা আর দেরি বলে মনে হয়নি। ধানের শিষও তো সময় হওয়ার আগে মাথা নোয়ায় না। বরং মনে হয়েছে, এতসব ব্যস্ততার মাঝেও তুমি কিছু সময় আলাদা করে কিছু কথা ভেবেছো, এটুকুই কম প্রাপ্তি না।
জানো?
আজকাল একটা কথা খুব মনে হয়, কাউকে মুগ্ধ করার চেয়ে নিশ্চিন্ত করাটা হয়তো অনেক বেশি কঠিন, আবার অনেক বেশি জরুরিও। কারণ মানুষকে সবসময় সমাধান দিয়ে ভালোবাসা যায় না; কখনো কখনো শুধু খেয়াল রাখাটাও একধরনের গভীর মায়া।
হয়তো কোনোদিন খুব ক্লান্ত এক সন্ধ্যায় তুমি উঠোনে চুপচাপ বসে থাকবে। আমি খুব বড় কোনো কথা বলবো না, শুধু জিজ্ঞেস করবো, “আজ খুব কষ্ট হলো?” তুমি উত্তর না দিলেও ক্ষতি নেই। সব ক্লান্তির ভাষা শব্দে হয় না।
ধান যেমন সময়ের আগে গোলায় ওঠে না, সম্পর্কও বোধহয় তেমনি। একটু রোদ লাগে, একটু অপেক্ষা লাগে, আর সবচেয়ে বেশি লাগে—ধৈর্য।
তাই যদি কোনোদিন খুব সাধারণ কোনো বিকেলে, কিংবা কাজের ভিড়ে হঠাৎ আমার কথা মনে পড়ে, তাহলে এটুকু ভেবো, একজন মানুষ আছে, যে তোমাকে মুগ্ধ করার চেয়ে নিশ্চিন্ত করার চেষ্টাটাকেই বেশি সত্যি মনে করে।
ইতি
তোমারই আলিফ ।