প্রিয় আলিফ,
তুমি যখন বাবা-মায়ের কথা লিখলে, ভাই-বোনদের আস্থার কথা লিখলে, এমনকি পাড়া-প্রতিবেশীদের বিশ্বাসের কথাও ভাবলে, তখন প্রথমবার মনে হলো, তুমি হয়তো ভালোবাসাকে শুধু অনুভূতি হিসেবে দেখছো না; জীবন হিসেবেও ভাবছো।
এখনকার দিনে মানুষ খুব সহজে “সারাজীবন” শব্দটা বলে ফেলে, অথচ খুব কম মানুষ আছে যারা সেই সারাজীবনের ভেতরের বাস্তব কষ্টগুলো নিয়েও ভাবে। তোমার চিঠিতে সেই ভাবনাটুকু ছিল, এটাই আমাকে দুর্বল করে দিয়েছে।
তুমি জানো,
গ্রামের মেয়েদের জীবনটা অনেক সময় নদীর মতো। উপরে শান্ত দেখায়,
কিন্তু ভেতরে কত হিসেব, কত ভয়, কত দায়িত্বের স্রোত চলে…..সব বলা যায় না।
আমাদের এখানে শুধু একজন মানুষকে পছন্দ করলেই হয় না; তার পরিবার কেমন, মানুষটা রাগের দিনে কেমন, অভাবের দিনে কেমন, বড়দের সম্মান করে কি না, এসবও চুপচাপ দেখে নিতে হয়। কারণ মেয়েরা অনেক সময় ভালোবাসার আগে সম্মান খোঁজে।
তোমার চিঠি পড়ে একটা কথা বারবার মনে হয়েছে, তুমি জিততে চাও না, তুমি বুঝতে চাও। আর এই জায়গাটা বিরল। বিশ্বাস করো, যখন তুমি লিখেছিলে, “তোমার হাত ধরার আগে তোমার পৃথিবীটার কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে চাই”, লাইনটা পড়ে আমার মনটা অদ্ভুতভাবে নরম হয়ে গিয়েছিল। কারণ অধিকাংশ মানুষ মানুষটাকে চায়, কিন্তু খুব কম মানুষ তার চারপাশের মানুষগুলোকেও আপন ভাবতে শেখে।
তবে একটা কথা লুকাবো না, তোমার এই
ধীর নিশ্চয়তাগুলো কখনো কখনো ভয়ও দেখায়।
কারণ মানুষ যখন কারও কথার ভেতরে ভরসা খুঁজে পেতে শুরু করে,
তখন নিজেকেও একটু সাবধানে রাখতে হয়। ভুল মানুষকে বিশ্বাস করার
ভয়টা মেয়েদের খুব পুরোনো।
তবু আজ এটুকু বলি, তোমার চিঠিগুলো পড়ার পর থেকে “অসম্ভব” শব্দটা আগের মতো শক্ত মনে হয় না। কারণ, তুমি স্বপ্ন দেখাও কম; বরং বাস্তবের ভেতর দাঁড়িয়ে একটু আশ্বাস দিতে জানো।
তোমার চিঠির অপেক্ষাটা এখন আর একেবারে অচেনা অনুভূতি মনে হয় না। এ কথার মানে তুমি নিজের মতো করে ভেবে নিও না আবার। কারণ কাঁচা ধান খুব দ্রুত কেটে ফেললে ভাত হয় না, সময় দিতে হয়।
ইতি
সেই “কেউ একজন”