প্রিয়,
তুমি লিখেছিলে, “মেয়েরা শুধু প্রেমের ভাষা দেখে না, ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও খোঁজে”। কথাটা অনেক ভেবেছি। হয়তো এই কারণেই এখন তোমাকে নিয়ে ভাবলে শুধু হাত ধরার কথা ভাবি না; ভাবি, যদি কোনোদিন সত্যিই তোমার পাশে দাঁড়াতে চাই, তাহলে সেই পথটা কেমন হওয়া উচিত। আমি চাই না আমাদের গল্পটা তাড়াহুড়োর হোক। গ্রামের জীবনে ভালোবাসা শুধু দু’জন মানুষের বিষয় নয়, পরিবার, আস্থা আর সামাজিক বিশ্বাসেরও বিষয়।
এই কারণেই প্রথমে তোমার বাবা-মায়ের কথাই ভাবি। কারণ মেয়েদের জীবনে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা নদীর স্রোতের মতো, সবসময় চোখে পড়ে না, কিন্তু গভীরে থাকে। আমি চাই, ওনারা যদি কোনোদিন আমাকে নিয়ে ভাবেন, তাঁরা যেন অন্তত দায়িত্বশীল একজন মানুষ দেখতে পান, যে অভাবের দিনে পালাবে না, রাগের দিনেও অসম্মান করবে না। তাঁরা যেন মনে করে, “ছেলেটা হয়তো ধনী না, কিন্তু দায়িত্ব এড়িয়ে যাবে না।”
তোমার ভাই-বোনদের কথাও ভাবি। চাই, তারা আমাকে বাইরের কেউ না ভেবে এমন একজন ভাবুক, যার কাছে তোমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা কমে।
আর পাড়া-প্রতিবেশী?
তুমি জানোই, গ্রামের সমাজ নদীর পাড়ের মতো, একটু অসাবধান হলেই ভাঙন নিয়ে কথা শুরু হয়। কিন্তু আমি এটাও বিশ্বাস করি, মানুষের ধারণা সবচেয়ে বেশি বদলায় ধৈর্য আর শালীনতায়।
তুমি তোমার চিঠিতে লিখেছিলে, ভালোবাসা ফুলের মতো না, বৃক্ষের মতো হওয়া উচিত; ধীরে ধীরে বড় হয়, কিন্তু একসময় ছায়া দেয়। কথাটা আমার ভেতরে গেঁথে গেছে। হয়তো এই কারণেই এখন আমাদের নিয়ে খুব বড় স্বপ্ন দেখি না। বরং ছোট ছোট দৃশ্য কল্পনা করি, হয়তো কোনোদিন ঈদের আগে তোমার ছোট বোনের জন্য একটা জামা কিনে আনলাম, আর সে মুখ লুকিয়ে খুশি হলো। হয়তো তোমার মা অসুস্থ হলে ওষুধ আনতে বাজারে গেলাম, কারণ সম্পর্ক শুধু একজন মানুষকে ভালোবাসা না; তার পৃথিবীর মানুষগুলোকেও ধীরে ধীরে আপন ভাবতে শেখা। কারণ আমি বুঝেছি, ভালোবাসা জোর করে জিতা যায়না, জিততে হয় শিষ্টাচারের ধরাবাহিকতায়।
খুব সহজে পাওয়া জিনিসের মূল্য কমে যায়, কিন্তু যেটার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, মানুষ সেটাকে যত্ন করতে শেখে। তাই আমি তাড়াহুড়ো করছি না। আমি শুধু চাই, যদি কোনোদিন সত্যিই তোমার দিকে হাঁটার সুযোগ পাই, তাহলে যেন তোমার হাত ধরার আগে তোমার পৃথিবীটার কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারি।
ইতি
তোমারই আলিফ