প্রিয়,
তোমাকে কী নামে ডাকি ! এই প্রশ্নে আমি প্রতিদিনই থমকে যাই; যেমন ভোর নামার আগে কুয়াশা-ঢাকা মাঠ এক মুহূর্ত নিঃশব্দ হয়ে থাকে, নিজেরই ভেতরে ডুবে থাকে কিছু মুহূর্ত।
সেদিন তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম পুকুরপাড়ে জল তোলার ভঙ্গিটুকু ছিল এমন, যেন স্থির জলের বুকে হালকা বাতাসের প্রথম স্পর্শ। তোমার হাসি শিশিরভেজা শিউলির মতো অতিসাধারণ, অথচ গভীর; নিঃশব্দে চারপাশে সুবাস ছড়িয়ে দেয়। তোমার চোখ দুটি রাত্রির জোনাকির মতোই, অন্ধকার সরায় না বরং তার ভেতরেই রেখে যায় একটুকরো নরম আলোর দিশা। তুমি কথা বললে মনে হয় দূরের কোনো বাঁশি অপরাহ্নের নিস্তব্ধতা ভেঙে মনের ভেতর নামিয়ে দেয় অদ্ভুত এক শান্তি।
আমি কোনো বড় কথা জানি না, শহুরে পরিমিত
ভাষাও শিখিনি, তবু এটুকু বুঝি, তোমাকে
দেখলেই আমার ভেতরটা ভেজা ফসলের ক্ষেতে হঠাৎ রোদ পড়ার মতো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
তুমি যদি অভিমান করো, আমি হবো নীরব মাটি তোমার পায়ের কাছে নিশ্চুপ হয়ে পড়ে থাকবো। তুমি যদি একবার হাসো, আমি হবো বিস্তৃত আকাশ শুধু তোমার সেই হাসিটুকুর জন্যই নিজেকে মেলে ধরবো।
আমি তোমার কাছে বেশি কিছু চাই না, শুধু চাই, কোনো এক সন্ধ্যায় যখন মনটা অকারণে শূন্য হয়ে যাবে, তুমি একবার আমার কথা ভেবে নিও। আমি থাকবো তোমারই জন্য এক মেঠোপথের মতো, যে কোথাও যায় না, প্রতিদিন অপেক্ষা করে শুধু একটি পরিচিত পদচিহ্নের।
ইতি
তোমারই—আলিফ