আমি এক ধীরে বয়ে যাওয়া নদী,
নিজের গন্তব্যের চেয়েও বেশি বহন করি
দুই তীরের নীরবতা।
আর তুমি?
আমার তীরে জন্ম নেওয়া ধৈর্যের সবুজ ঘাস;
যে আমাকে থামাতে চায় না,
কেবল পাশে থেকে
বয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।
তুমি তো জানো,
নদীরও কিছু নিজস্ব ঋতু থাকে,
কিছু ভাঙন থাকে,
কিছু অনিবার্য বাঁক থাকে।
আর তরঙ্গ?
সে তো নদীর অস্থির উচ্চারণ।
কখনও আনন্দ,
কখনও উদ্বেগ,
কখনও বা গভীর জলের গোপন ভাষা।
নদীর সৌন্দর্য তার গন্তব্যে নয়,
তার অবিরাম বয়ে চলার মধ্যে;
তরঙ্গেরও সৌন্দর্য
তীরে এসে মিশে যাওয়ার আগে
নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার মধ্যে।
তাই,
আমি যখন ভাঙি,
তুমি আতঙ্কিত হও না;
আমি যখন শান্ত হই,
তুমি উল্লাসে মেতে ওঠো না।
কারণ তুমি জানো,
প্রতিটি তরঙ্গের পরেই
নদী আবার নিজের ছন্দে ফিরে আসে।
তোমাকে ভাবলে
কোনো দূর গন্তব্যের কথা মনে পড়ে না,
মনে পড়ে এক নিশ্চিন্ত তীরের কথা,
যেখানে পৌঁছানোর কোনো তাড়া নেই,
শুধু এটুকু জানলেই বুক ভরে যায়,
সে আছে।
কেননা,
ভালোবাসা মানে তো এ-ই,
কারও জীবনের অবাধ্য তরঙ্গ হয়ে ওঠা নয়,
তার সমস্ত জোয়ার-ভাটা,
সমস্ত ভাঙন ও প্রবাহের পাশে
এক পরম নির্ভরযোগ্য তীর হয়ে থাকা।