বৃষ্টি ঝরে নরম ছন্দে—
ধানক্ষেতের সবুজে ভিজে আছে পৃথিবী,
আকাশ যেন কারও না বলা প্রার্থনা মেনে কেঁদে চলেছে নিঃশব্দে।
ধানক্ষেতের সবুজে ভিজে আছে পৃথিবী,
আকাশ যেন কারও না বলা প্রার্থনা মেনে কেঁদে চলেছে নিঃশব্দে।
আমি দাঁড়িয়ে আছি ছাতা হাতে,
মাথার ওপর বৃষ্টির টুপটাপ সুরে মন কেমন করে যায়।
দুই কৃষক হাসছে, কাদা মাখা গায়ে জীবন জড়িয়ে,
চোখে তাদের অনন্ত ক্লান্তি, তবু দীপ্ত আনন্দের রেখা।
তাদের হাতে লাঙল নয়—আজ কেবল জীবনের কাঁচা ঘাম,
যার গন্ধে আমি খুঁজে পাই আমার জন্মভূমির সত্য ইতিহাস।
আমি বলি, "বৃষ্টি থামলে একটু বিশ্রাম নেন,"
তারা হাসে, বলে—"মাঠে কাজ থামে না ভাই,
ধান যেমন বাঁচে জলে, তেমনি মানুষও বাঁচে শ্রমে।"
বৃষ্টির শব্দ যেন সেই কথার প্রতিধ্বনি হয়ে বাজে দূরে।
আমার ছাতার নিচে এক ফোঁটা জলও পড়ে না,
তবু মনে হয় ভিজে যাচ্ছি—
তাদের পরিশ্রমের শ্রদ্ধায়, তাদের হাসির আশীর্বাদে।
ধানক্ষেতের ওই আলপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে বুঝি—
এই মাটির গন্ধই আমার আসল ঠিকানা।
বৃষ্টির ভেজা আলোয় ধানগাছগুলো মাথা নোয়ায়,
মনে হয় যেন তারা ও বলে উঠছে—
“তুমি আমাদের কথাই লিখে যাও, আলিফ,
যতদিন এই মাটি বেঁচে থাকে, ততদিন আমরা সবাই এক।”