তুমি যখন হাসো,
ক্যামেরার সীমিত লেন্সে ধরা পড়ে সেই দীপ্তি—
এক মুহূর্তে স্থির হয়ে যায়,
আলো জমে থাকে সময়ের পাতায়।
তুমি নীরবে—ঠোঁট নুড়াও শুধু আমার নামে,
যেন হাওয়ার ভেতরে খুঁজে পাওয়া অদৃশ্য সুর—
তখন পৃথিবীর কোনো যন্ত্রই ফিরিয়ে দিতে পারে না।
হৃদপিণ্ডের গভীর থেকে উঠে আসে প্রতিধ্বনি—
নীরব তরঙ্গ-সদৃশ, অদৃশ্য অথচ পূর্ণতাদায়ী।
তোমার অনুচ্চারিত শব্দেরা ভেসে আসে অন্তরে,
যেন গোধূলির ধূলিকণা গাঢ় হয়ে বসে চোখের পাতায়।
আমি শুনি না কানে, বুঝি না ভাষায়,
বরং অনুভব করি রক্তস্রোতে, নিঃশ্বাসের ছন্দে।
তুমি বলো না—তবু তোমার বলা হয়ে ওঠে,
না শুনেও শুনে ফেলি, না ছুঁয়েও ছুঁয়ে ফেলি।
তোমার নীরবতা—এক অর্কেস্ট্রা,
যেখানে প্রতিটি বিরতি একেকটি সুর;
সেখানে আমি খুঁজে পাই আমার নাম,
আমার রূপান্তরিত ছায়া।
তুমি না তাকিয়েও তাকাও, না ছুঁয়েও ছুঁয়ে যাও—
সেই স্পর্শের লাবণ্য ছবিতে ধরা পড়ে না,
কোনো ফ্রেমে জায়গা থাকে না।
আমি ভাবি—হয়তো প্রেম মানেই এই:
যেখানে বলা কথা নয়, না-বলা কথা হয়ে ওঠে মুখ্য সুর,
যেখানে দৃষ্টির আড়ালে থাকা অশ্রুত ধ্বনি
চিরন্তন গানে রূপ নেয়।
তুমি আমার কাছে সেই গোপন কবিতা—
যা বাতাসে লেখা, দেখা যায় না, পড়া যায় না,
তবু হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে
বারবার উচ্চারিত হয়।