আমার কাছে সুখ মানে তো মায়ের মুখের হাসি,
বাবার ছায়ায় নির্ভয় মন জীবন ভালোবাসি।
মাথার ওপর বটের মতো বাবার স্নেহছায়া,
মায়ের আঁচল জড়িয়ে রাখে বিশ্বজোড়া মায়া।
বাবার ছায়ায় নির্ভয় মন জীবন ভালোবাসি।
মাথার ওপর বটের মতো বাবার স্নেহছায়া,
মায়ের আঁচল জড়িয়ে রাখে বিশ্বজোড়া মায়া।
ছোট্ট ভাইটি খেলার ছলে জড়িয়ে ধরে বুকে,
এক নিমেষে প্রদীপ জ্বলে হৃদয়-আকাশজুড়ে।
বোনটি আমার প্রদীপশিখা আঁধার ভাঙার আলো,
তারই স্নেহে কঠিন দিনও হয়ে ওঠে ভালো।
স্ত্রী যেন মোর শান্ত নদী ক্লান্ত দুপুরের ছায়া,
তারই চোখে খুঁজে পাই পরম স্নেহের মায়া।
সন্তানেরা ভোরের পাখি নতুন দিনের গান,
তাদের হাসিতেই মুছে যায় দুঃখ-অভিমান।
শিক্ষক মোর পথপ্রদর্শক জ্ঞানের আলোকধারা,
ভুল পথে পথ হারালে তিনিই ধ্রুবতারা।
সহপাঠীরা শৈশব-কৈশোরের রঙিন ক্যানভাস,
স্মৃতির পাতায় জমা থাকে কত বিচিত্র ইতিহাস!
কর্মক্ষেত্রের সহকর্মী চলতি পথের সাথি,
ক্লান্ত দিনে ভাগ করে নেয় শ্রমের যত গ্লানি।
হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখে নিত্য থাকে পাশে,
ব্যস্ততার ভিড়ে তারা ভালোবাসায় ভাসে।
নিকটাত্মীয় শিকড় যেন মাটির গভীর টানে,
দূরত্ব যতই থাকুক না কেন আপন থাকে প্রাণে।
বিপদ এলে বাড়িয়ে দেয় স্নেহের দুটি হাত,
তাদের ভালোবাসায় কেটে যায় আঁধার কালরাত।
প্রতিবেশীও আপনজন সুখে-দুঃখে সাথি,
একই পথে সকাল নামে এক উঠোনে বাতি।
একই রোদে শুকায় কাপড় একই আকাশ ঘিরে,
একটু স্নেহ, একটু মমতায় সম্পর্ক বাঁধে ধীরে।
এদের নিয়েই গড়ে তোলা ছোট্ট পৃথিবীখানি,
এদের মুখের হাসির মাঝেই সুখের ছবি আঁকি।
ধনসম্পদ নয় যে কেবল সুখের পরিচয়,
আপনজনের ভালোবাসাই আসল পরম জয়।
তাই তো আমি বুকের মাঝে এই কথাটি রাখি,
সুখের খোঁজে দূরে নয় আপন মানুষেই থাকি।
জীবন যতই কঠিন হোক যতই আসুক দুঃখ,
ভালোবাসার ঘরেই মেলে পরম শান্তি-সুখ।
সুখের আসল ঠিকানা তো নয় কোনো প্রাসাদ-পুরী,
আপন মানুষ পাশে থাকাই শ্রেষ্ঠ বিজয়, সুখের ভুবন গড়ি।