মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় মহাগ্রন্থ—আল-কোরআন।
যার প্রতিটি অক্ষর নূরে ভরা, প্রতিটি শব্দে ছড়িয়ে আছে রহমতের শীতল ছায়া।
আমি যখন থমকে যাই জীবনের কঠিন মোড়ে, নিঃশব্দে খুলে বসি সেই পবিত্র পাতা—
মনে হয় যেন আসমানের দরজা খুলে, আমার উপর নেমে আসে এক অদৃশ্য শান্তির বৃষ্টি।
কোরআন তেলাওয়াত করলে হৃদয়ে যে আলো জ্বলে, তার কোনো তুলনা নেই।
প্রতিটি অক্ষরে দশ নেকির প্রতিশ্রুতি—এ এমন দান, যা শুধু দয়াময় রবই দিতে পারেন।
আর আমি যখন আলিফ-লাম-মীম উচ্চারণ করি, মনে হয় ফেরেশতারা নেমে এসে
আমার ক্লান্ত বুকের উপর দুটি সাদা পাখা বিছিয়ে দেয়, কুয়াশা সরিয়ে দেয় দুশ্চিন্তার।
কোরআন শুধু বই নয়—এ এক জীবন্ত সঙ্গী,
যে কিয়ামতের দিন আমার হয়ে আল্লাহর দরবারে দাঁড়াবে,
বলবে—“এই বান্দা আমাকে পড়তো, আমাকে ভালোবাসতো।”
আমি তখন কেঁপে উঠি—এই কি সেই উপকারিতা,
যাকে অবহেলায় আমি কতদিন দূরে রেখেছিলাম?
তেলাওয়াতের শব্দ যখন ঘরজুড়ে ভেসে ওঠে,
হাওয়া বদলে যায়, ফেরেশতারা নেমে আসে,
রিজিকের দরজাগুলো নরম হয়ে যায়, ঘুমে শান্তি নামে।
চরিত্র বদলে যায় অদৃশ্যভাবে—
জিহ্বা হয়ে যায় কোমল, হৃদয় হয়ে যায় আলোকিত,
পাপের প্রতি জন্ম নেয় গভীর অনীহা,
আর নেকির প্রতি অদৃশ্য আকর্ষণ।
কখনো মনে হয়, কোরআন শুধু আয়াত নয়—
এ আমার ভিতরের ভাঙাচোরা অংশগুলো জোড়া লাগানোর এক অলৌকিক আঠা।
দুঃখের মুহূর্তে এটি হৃদয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
“আমি রহমত হয়ে তোমার জন্য নাজিল হয়েছি—
এগিয়ে চলো, আল্লাহ তোমার সঙ্গে আছেন।”
এভাবে প্রতিটি তেলাওয়াত, প্রতিটি নিশ্বাস,
আমাকে আরও শান্ত, আরও দৃঢ়, আরও পরিপূর্ণ মানুষের পথে নিয়ে যায়।
আর আমি উপলব্ধি করি—
মানুষের কথায় নয়, কোরআনের নূরেই সত্যিকারের জীবন ফিরে পাওয়া যায়।