ছোট গল্প
কী বাপু,অমন ডাগর চোখে তাকিয়ে ফেলফেল করে হাসছো কেন? আমি কি যেচে এসেছি এ খোয়াড়ে! দুহাতে লোহার চুড়ি,কোমরে গো-দড়ি পড়িয়ে তোমরাইতো বাপু টেনে-হিছড়ে নিয়ে এলে আমায়!
আমার প্রলাপ না হয় অসত্য বলেই ভেবেছো,অমন আধবোল বলা মেয়েটি আমার,সেও কি মিথ্যে বলেছে ভেবেছো? আহা,ন্যাকা- স্বরে ও যখন বলছিল,আমার বাজানকে নিও না। বাজান কোন দোষ করেনিকো।কষ্টে আমার বুকটা ফেটে চৌচির হয়ে গেল;তোমাদের তবু টনক নড়লো না!
নড়বেই বা কেন,তোমাদের তো বিশ্বাস করানোই হয়েছিলো,গোদামের চাল আমিই চুরি করেছি! কতগুলো মিথ্যুকতো প্রকৃত হাসির আড়ালে কৃত্রিম প্রলাপে আমার সামনেই তোমাদের বলে দিল-ও কাজ আমারই!
আরে বাপ,আমি তোদের কী এমন ক্ষতি করেছিলুম? আমি তো শুধু ভয় দেখাচ্ছিলাম যে,"সরকারি অনুদান গরিবের প্রাপ্য। তারা তার সুষ্ঠ বিতরণ চায়। তা না করে আপনারা তাদের সহায়তা প্রদানের নামে টাকা কামাচ্ছেন? বয়স্ক ভাতার কার্ড টাকার বিনিময়ে করছেন বিক্রি?বিধবাদেরকে শুধু টাকার বিনিময়েই নয়;অনাচারে লিপ্ত হতে বাধ্য করছেন সরকারি সাহায্য দেবার নাম করে? এসব আমি ফাঁস করে দেব।আপনাদের মুখোস খুলে দেব। আইনের দ্বারস্থ হব আপনাদের বিরুদ্ধে।" অথচ তোরা ভাবলি আমি সত্য বলছি ? আমি সত্যি এসব করতে যাব?
বিশ্বাস কর বাপু,আমি যদি জানতাম,আইনের উপর মহল পর্যন্ত বিস্তৃত এদের হাত,ছিঃ আমি বলতাম না এসব কথা।
টাকা। টাকারে বাপু টাকা। যে টাকা জোগাড় করতে আমাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়,সে টাকার একটা বাণ্ডেল আমায় দিতে চাইলো ওরা! আহ! টাকাটা অমন ভাবে ছুড়ে ফেলতে আমার খুব খারাপ লাগছিলো। তবু ভাই,ও তো আর আমার হকের ধন নয়;আমি ঘৃণায়-রাগে,টাকার বাণ্ডিলটা ছুড়ে ফেলে স্ব-দর্পে চলে এলাম।
সমূহ চিন্তার হাতছানিতে প্রায় নির্ঘুম কাটল সারাটা রাত। ভোর রাতে যখন ঘুমটা পাকা হয়ে আসছিলো,তখনি বাপু তোমরা রীতিমত দরজা ভেঙ্গে ঢুকে পড়লে আমার ঘরে। আর ঐ নর্দমার কীটগুলো যা বলল,তা বিশ্বাস করে আমায় ধরে নিয়ে এলে!
ওদের আঁড়চোখে হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা সত্যটা তোমরা বাপু বুঝতে না পারলেও আমার ঐ টুকুন মেয়ে সবই বুঝেছিল। বড় হলে ও নাম করা ধর্মাবতার হবে,সে তোমরা বেঁচে থাকলে নিশ্চয় দেখতে পাবে। আমি মরে গেলেও সেদিন ও আমার এই লৌহ-চুড়ি খুলে দেবেই।
ভাবছো,এসব তোমাদের বলে কী লাভ? আরে বাপ,আমাদেরতো প্রলাপেই শান্তি!