প্রতিদিন নিজের ভিতরের অচেনা নদীর কাছে বসে তোমাকে লিখি—
জল নয়, যেন এক নীরব তরঙ্গের ডায়েরি,
যেখানে প্রতিটি ঢেউ শব্দহীন হয়ে জন্ম নেয়
তোমার অনুপস্থিতির সুরে।
তোমার চোখে এক অদৃশ্য জ্যোৎস্না আছে—
যার ভেতর আমি হারিয়ে ফেলি নিজের সময়বোধ,
মুহূর্তগুলো সেখানে জমে থাকে
বাষ্পের মতো, অস্থির, অথচ নরম।
তুমি নেই—
তবু তোমার না-থাকা আমার জগতের কেন্দ্র।
এই অনুপস্থিতির চারপাশেই ঘুরে বেড়ায় আমার দিন,
আমার রাত, আমার সমস্ত লেখাগুলো।
কখনও ভাবি, তুমি এক রূপান্তরিত জলরেখা—
যে ছুঁয়ে যায় আমার ভাষার কিনারা,
তারপর নিঃশব্দে মিলিয়ে যায় ভিতরের নীল অন্ধকারে।
আমি শুধু বসে থাকি—
অর্ধেক বাস্তব, অর্ধেক জলের ভেতর,
আর লিখে যাই এমন সব বাক্য,
যেগুলো শেষ পর্যন্ত কেবল ঢেউ হয়ে ফিরে আসে
আমারই হৃদয়ের তীরে।