ধানের শিষ দুলছে মাঠে,
গোধূলির আলোয় গরুর ঘণ্টার শব্দ মিশে আছে দূরের বাঁশির সুরে।
সেই সুরের মতোই প্রেমিক ডাকে
“খুলে দাও হৃদয়ের দুয়ার,
তুমি যদি আসো, ক্ষতি কিসের?
একবার হাত রাখো আমার হাতে,
তাহলেই স্বপ্নেরা দৌড়ে এসে
ভরে দেবে তোমার মনপ্রাঙ্গণ।”
গোধূলির আলোয় গরুর ঘণ্টার শব্দ মিশে আছে দূরের বাঁশির সুরে।
সেই সুরের মতোই প্রেমিক ডাকে
“খুলে দাও হৃদয়ের দুয়ার,
তুমি যদি আসো, ক্ষতি কিসের?
একবার হাত রাখো আমার হাতে,
তাহলেই স্বপ্নেরা দৌড়ে এসে
ভরে দেবে তোমার মনপ্রাঙ্গণ।”
নদীর বুক যেমন কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল,
তেমনি প্রেমও কখনো অশ্রুর ঢেউ তোলে,
কখনো আবার উজাড় করে দেয় আনন্দের সবুজ ঢেউ।
শিউলি-ঝরা ভোরে যেমন উঠান ভরে ওঠে সুরভিতে,
প্রেমের ফুলও তেমনি অচেনা বাঁধা মানে না,
তার সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে হৃদয়ের গভীর গ্রামে।
আঁধার নেমে এলে কুয়াশা যেমন ঢেকে দেয় মাঠ-ঘাট,
তেমনি প্রেমও ঢেকে দেয় একাকিত্বের নিঃসঙ্গতা।
চোখের ভেতর চোখ রেখে লেখা হয় কাব্য,
যার অক্ষর অশ্রুজলে ভেজা,
যার কাগজ কেবলই হৃদয়ের খাতা।
সেই কাব্যের রাজ্যে প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনই রাজা,
দুজনই প্রজা,
দুজনই একই মাটির গন্ধে ভেজা মানুষ।
মাটির উঠোনে যেমন খেজুরগাছ দাঁড়িয়ে থাকে অবিচল,
প্রেমিকও তেমনি তার সমস্ত বাসনা
স্বপ্নের হাতে তুলে দেয়।
সে হয়ে ওঠে নদীর মতো অশান্ত,
তবু তার টলমল জলে প্রতিফলিত থাকে
অবিরাম ভালোবাসা।
কখনো সে শস্যের মতো ঝরে পড়ে,
নিজেকে বিলিয়ে দেয় প্রেয়সীর আহারে,
কখনো সে প্রদীপ হয়ে জ্বলে ওঠে
অন্ধকার ভেদ করতে।
আমি যুগে যুগে ঘুরেছি
হাটের কোলাহল, মেলার আলোর ঝলকানি,
গরুর গাড়ির টংটং শব্দ,
পথিকের ধুলো-মাখা দিন
সবকিছুর ভিড়ে আমি খুঁজেছি সেই দুটি চোখ।
যেদিন তোমার চোখে চোখ রাখলাম,
সেদিনই জেনেছি,
ভালোবাসা আছে বলেই এখনো জীবন বেঁচে থাকে,
সাহস বাঁচিয়ে রাখে কৃষকের মতো অবিচল।
যেমন সে সূর্যের তাপে ঘাম ঝরিয়ে
শস্য ফলায়,
তেমনি আমি ঘাম ঝরিয়ে বাঁচিয়ে রাখি
ভালোবাসার ধানক্ষেত।
স্বপ্নেরা মন নিয়েই খেলা করে,
কখনো ঢেউ হয়ে, কখনো ঝড় হয়ে,
কখনো ভোরের শিশির হয়ে, কখনো নিশির জ্যোৎস্না হয়ে।
তবু তারা থেকে যায়
আ-মৃত্যু, অটল,
গ্রামের মাটির মতো দৃঢ়,
নদীর মতো প্রবহমান,
ভালোবাসার মতোই শাশ্বত।
অসাধারন
উত্তরমুছুন