নূরে আলম আলিফ
দৃষ্টিশক্তিহীন পতত্রীসম ছিলো আমার ওড়াউড়ি...
গোলাপ ও শিমুলের কোন পার্থক্যই ছিল না;
ওড়ার ইচ্ছায় দু'টি ডানা প্রসারিত করে-
বাঁধাহীন উড়তে পারলেই ভাবতাম, "এ' আমার আকাশ";
কোথাও ডানা আটকে গেলে ভাবতাম, "এ' নিশ্চয় কোন পাহাড় হবে।"
সেদিন- আসলে সময়ের কোন্ লগ্ন চলছিলো ঠিক জানি না,
রূপালি রাত শেষে রক্তিম সূর্যোদয় ভেবে-
সারাটা দিন কোন নন্দিত কাননে কাটাবার তীব্র তামান্নায়
উড়তে উড়তে শুনতে চেষ্টা করছিলাম যুগল কথোপকথন।
মাঝপথে- আচ্ছা, তখন কি মাঝপথ ছিল প্রিয়তি ?
আকাশ অজানা অভিমানে ভিজিয়ে দিলো আমায়,
শরীর ও ডানা ভিজে হারিয়ে গেলো আমার ওড়ার ক্ষমতা।
দমকা হাওয়ায় পল্টি খাওয়া ঘুড়ির মতো হামাগুড়ি খেতে খেতে
ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত কলেবরে যেখানে জ্ঞানশূন্য হয়েছিলাম
সে ছিলো তোমার রূপালি সন্ধ্যার ঝমকালো আড্ডার "জ্যোৎস্না সরোবর"
হঠাৎ গিটারে সুর না উঠার কারণ খুঁজতে গিয়ে-
যখন আবিষ্কার করলে তারে প্যাঁচানো একটি ভেজা পালক-
তখনি তোমার চোখ পড়লো মধ্য সরোবরে- যেখানে আমি ভাসমান।
তোমার প্রাণান্ত পরিচর্যা আর অকৃত্রিম প্রেমোপ্রলেপে
কেবল গাত্রাঘাত উপশমই নয়; আমায় মহা বিস্মিত করে
ফিরিয়ে দিলে আমার দৃষ্টিশক্তিও- যা আবৃত ছিলো হেয়ালিপনায়।
আমায় অবাক করে তুমি বললে, "আপনি দৃষ্টিহীন ছিলেন না"
কেন জানি না তখন আমারও মনে হয়েছিলো-
তোমাকে দেখার অপেক্ষায়ই এ' আঁখিদ্বয় আবৃত ছিলো।
পৃথিবীর সেরা 'পুষ্প' আমার হবে বলেই-
আমার অবচেতন মন গোলাপ-শিমুলের পার্থক্য খোঁজেনি।
এ' জ্যোৎস্না সরোবরের সঞ্জীবণী জলস্পর্শ আশেই-
প্রতিনিয়ত প্রাণে স্পন্দিত হতো যুগল কথোপকথন,
আকাশের সে কান্না অভিমানের ছিলো না; আমার কাঙ্ক্ষিত প্রণয় বরণে
জলপুষ্পে নন্দিত করেছিলো আমাদের- আকাশ তোমায় ধন্যবাদ।